আজ মেট্রোরেল উদ্বোধন : সেবা বাড়াতে বাধ্য হবেন বাস মালিকরা

124
মেট্রোরেল নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন
মেট্রোরেল নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন

২০০৫ সালে যখন ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তখন আমি এর বিভিন্ন বিষয়ে জড়িত ছিলাম। তখন থেকেই গণপরিবহনে স্বপ্নের উপকরণ যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা বাড়তে থাকে। সত্যি বলতে ঢাকায় কোনো গণপরিবহন নেই। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হল একটি সিস্টেম যেখানে নির্দিষ্ট স্টেশন আছে। যাত্রীবাহী যানবাহন সময়মতো সেখানে পৌঁছাবে এবং ছাড়বে। স্টেশনে পৌঁছালেই যাত্রী জানবে যে সে গাড়ি পাবে, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাবে। উন্নত বিশ্বে মানুষ এভাবেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এত দিন ঢাকার গণপরিবহনের প্রধান উৎস ছিল বাস। কিন্তু এর কোনো নির্দিষ্ট স্টেশন নেই, সময়ানুবর্তিতার কোনো সংস্কৃতি নেই। এখন ঢাকাবাসী মেট্রোরেল পাবেন। মেট্রোরেল বিশ্বব্যাপী সময়ানুবর্তিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছে। ঢাকা মেট্রো রেলেও তা সম্ভব।

মেট্রোরেল শুধু দ্রুত পরিবহন নয়। এর প্রভাব পড়ছে পুরো পরিবহন ব্যবস্থায়। যেমন পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ মালিকরা ভাড়া কমাতে বাধ্য হন। লঞ্চ যাত্রায় সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। মেট্রোরেল ঢাকার বাড়িওয়ালাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আমাদের বাসস্থান পরিষেবা বলতে কিছুই নেই. ভাড়া নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। মানুষ বাসে উঠতে চায় না যখন তারা দেখে যে মেট্রো রেল তাদের গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে এবং যানজট এড়াচ্ছে। জমিদাররা হোঁচট খাবে। তাহলে বাধ্য হবেন সেবা বাড়াতে, যুক্তিসঙ্গত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করুন। এ জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক থাকতে হবে। সেবার মান, পরিচ্ছন্নতার অভাব যেন না থাকে। মেট্রোরেল যথাসময়ে চালাতে হবে। অথবা মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। এ ছাড়া স্টেশনে ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে হবে। যাতে যানজট না হয়।

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রভাব এখন মূল্যায়ন করা যাবে না। কারণ, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পুরো এলাকাটাই আবাসিক। ফার্মগেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অফিস-আদালত। ফলে মানুষ আবাসিক এলাকা থেকে অন্য আবাসিক এলাকায় যাতায়াত করবে না। মতিঝিল বা কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে এর প্রভাব বোঝা যাবে। এ ছাড়া শুধু একটি লাইন নয়, ছয়টি মেট্রোরেলের পুরো নেটওয়ার্ক তৈরি করা হলে এর প্রভাব পড়বে ব্যাপক।

ভবিষ্যতে যে মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে সেগুলো ব্যয়বহুল। মানুষ এর খরচ মেটাতে পর্যাপ্ত ভাড়া দিতে পারে না। এ জন্য কিছু হালকা রেল (এলআরটি) ও মনোরেল বিবেচনা করা যেতে পারে। এগুলি অল্প খরচে করা যেতে পারে, যদিও কিছুটা ধীর গতিতে। মানুষ কম টাকায় যাতায়াত করতে পারে। এ ছাড়া পুরান ঢাকা বা বাসাবো এলাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রধান সড়কে আসার ব্যবস্থা মসৃণ করতে হবে। তবেই ঢাকায় একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।