আসছে ডেঙ্গু এখন সময় প্রস্তুতি নেবার।

সামনে বর্ষাকাল।ডেঙ্গুর প্রকোপ থামাতে হলে এখনই আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।তা না হলে করোনার আঘাতে লণ্ডভণ্ড স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরোও মারাত্নক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে।গতবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা- দুটোই বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

আসছে ডেঙ্গু এখন সময় প্রস্তুতি নেবার
আসছে ডেঙ্গু এখন সময় প্রস্তুতি নেবার

বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্ব এখন ব্যস্ত করনা মোকাবেলায়।করোনার তান্ডবে দিশেহারা সব দেশ।বাংলাদেশেও আঘাত হেনেছে এই ভাইরাস।দিনদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন ভয় কাজ করছে,আর তা হলো ‘ডেঙ্গু’।

সামনে বর্ষাকাল।ডেঙ্গুর প্রকোপ থামাতে হলে এখনই আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।তা না হলে করোনার আঘাতে লণ্ডভণ্ড স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরোও মারাত্নক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে।গতবছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা- দুটোই বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিসের বরাতে জানা যায়,এ বছর বৃষ্টির মাত্রা অন্য বছরের তুলনায় বেশি থাকবে।এ বছর বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা  এইডিস মশার প্রজননের জন্য খুবই সহায়ক হবে। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্যই না, আশপাশের দেশগুলোতেও একই পরিস্থিতি হতে পারে। মশা যেভাবে বংশবিস্তার করছে, তাতে এখন থেকে মোটামুটি সারাবছরই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।বাংলাদেশে সাধারনত প্রতিবছর  মে মাস থেকেই ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়, জুন জুলাইয়ে ক্রমশ বাড়তে পারে। অগাস্টে নিতে পারে মারাত্মক রূপ।

এখন থেকেই আমাদের সচেতন হওয়া জরুরী।ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।ডেঙ্গুর ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের দেহে ছড়ায় মশার মাধ্যমে। মশাই এই রোগের একমাত্র বাহক। ডেঙ্গু ভাইরাস যে বিশেষ মশার মাধ্যমে ছড়ায়, তার নাম এডিস মশা। এডিস মশার দুই রকম প্রজাতি আছে। একটির নাম এডিস ইজিপ্টি অপরটি এডিস এলবোপিক্টাস। তবে আমাদের এই অঞ্চলে এডিস ইজিপ্টিই বেশি। এরা কামড়ায় সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে শেষ বিকেলে ও সন্ধ্যায়।এডিস মশা একটু ঘরকুনো স্বভাবের। পছন্দ করে আবদ্ধ জলাধার। এরা বাসাবাড়ির টবে, ফ্রিজের পেছনে জমে থাকা পানি, এসির পানি, কমোডে আটকে থাকা পানি ইত্যাদিতে বংশবিস্তার করে। রাস্তার খানাখন্দ, পড়ে থাকা পুরোনো টায়ার, যেকোনো রকমের পাত্র, জেরিক্যান, মোটকথা যেখানে পানি কিছুদিন জমে থাকতে পারে, সেখানেই এদের বসবাস প্রজনন ঘটায়।

ডেঙ্গু যাদের জন্য মারাত্নক রুপ নেয়ঃ
ডেঙ্গু সব বয়সীর জন্যই ভঙ্গকর হতে উঠতে পারে।তবে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগ জটিল হয়ে উঠতে পারে।এর আগে যারা আক্রান্ত হয়েছে, তারা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে জটিলতা বেশি হয়। এ রকম রোগীরা সহজে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হতে পারে।তাদের শরীর ডেঙ্গু প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটায় হারিয়ে ফেলে।এজন্য তাদের বাড়তি সতরক থাকতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য দরকার বিশেষ সতর্কতা দরকার।

লক্ষণ দেখা দিলেঃ
ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ জ্বর উঠা।এই সময়ে বাড়িতে কারও জ্বর হলে জ্বরের প্রথম দিনই চিকিৎসক দেখাবেন। জ্বরের মাত্রা যা-ই হোক, ডেঙ্গুর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেবেন না। লক্ষণ নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। উচ্চ মাত্রার জ্বর, গা–ব্যথা, মাথাব্যথা, র​্যাশ ইত্যাদি লক্ষণ ছাড়াও ডেঙ্গু হতে পারে। জ্বর কয়েক দিন হয়ে গেলে তারপর ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন পজিটিভ হবে না। তাই শুরুতেই রক্তের সিবিসি  ও ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা দেওয়া হয়। ডেঙ্গু এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন সাধারণত জ্বরের প্রথম দিন থেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত পজিটিভ থাকে। তবে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু হওয়া সত্ত্বেও এই পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে৷ যদি প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে রক্ত পরীক্ষা না হয়ে থাকে, তারপরও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা আছে। রোগের লক্ষণ উপসর্গ, সিবিসি রিপোর্ট ও অ্যান্টিবডি দেখে চিকিৎসক ধারণা করতে পারবেন।ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হলেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, এ রকম নয়। আপনার নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাবেন। চিকিৎসক পরামর্শ দিলে তবেই হাসপাতালে ভর্তি হবেন। জ্বরের সঙ্গে অন্য জটিলতা, যেমন হৃদ্​রোগ, প্রেগন্যান্সি, পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত বমি—এসব থাকলে, রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকলে সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আক্রান্ত হলে প্রচুর তরল পান করুন।জ্বরের শুরু থেকেই বাড়িতে প্রচুর তরল পান করবেন। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার। তরল মানে সাদা পানি, স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, লেবুর শরবত ইত্যাদি। প্রস্রাব পর্যাপ্ত হচ্ছে কি না, সেদিকে লক্ষ রাখবেন।

এডিস মশা রোধে আমাদের করনীয়ঃ

ডেঙ্গু আমাদের আক্রান্ত করার আগেই আমরা যদি আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি,তাহলে এর সর্বনাশা হাত থেকে আমরা নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি। মশা এই রোগের একমাত্র বাহক, সুতরাং মশার আবাস ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে পারলেই এডিস নির্বংশ হবে সমূলে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় তাই এডিস মশার বংশ নাশ। তাই বসতবাড়ির এ রকম আবদ্ধ জলাধার ধ্বংস করতে হবে। ফ্রিজের বা এসির পানি দুই দিন পরপর পরিষ্কার করতে হবে। বাসার বারান্দায়, টেরিসে বা কার্নিশে খোলা টব থাকলে সেটা পরিষ্কার করতে হবে। রাস্তার আশপাশের খানাখন্দ ভরাট করে ফেলতে হবে। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও মশামুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব তো আছেই, কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়ও কম নেই। এর আগেও আপৎকালে ও দুর্যোগে যেমন এ দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমে এসেছে, এখন সময় এসেছে আবার। যথাযথ কর্তৃপক্ষের দিকে না তাকিয়ে পাড়া-মহল্লায় তরুণেরা দল বেঁধে নিজেরাই নেমে পড়তে পারেন এই কাজে। কাজগুলো করতে হবে ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই।এডিসের হাত থেকে বাঁচতে হলে দিনে ও রাতে যখনই ঘুমাবেন, মশারি খাটিয়ে ঘুমাবেন। ঘরে মশানিরোধক স্প্রে করবেন। গায়ে মাখার মশানিরোধক একপ্রকার ক্রিম পাওয়া যায়। তা-ও ব্যবহার করতে পারেন। শিশুদের ফুল স্লিভ পাজামা ও জামা পরাতে পারেন। এতে মশার কামড় থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়।