করোনা | সিলেটে বাড়ছে পিসিআর ল্যাব

339
corona
A scientist placing a slide under a microscope

বর্তমানে সিলেটে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য দুটি আরটি-পিসিআর ল্যাব আছে। এবার আরেকটি পিসিআর ল্যাব পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ল্যাবটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হতে পারে। এর বাইরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের চেষ্টাও চলছে। জানা গেছে, সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের ল্যাবে বর্তমানে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। পরে ২০ মে থেকে কাজ শুরু করে শাবির ল্যাব। নমুনার চাপ থাকায় বর্তমানে সিলেট জেলার নমুনাগুলোর প্রায় পুরোটাই ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিছু নমুনা যায় শাবির ল্যাবে। আর সুনামগঞ্জের নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয় শাবির ল্যাবে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নমুনা পাঠানো হয় ঢাকায়। নমুনার চাপ থাকায় সংশ্লিষ্টরা সিলেট বিভাগে আরো একাধিক রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমার্স চেইন রিঅ্যাকশন (আরটি-পিসিআর)-ল্যাবের সংখ্যা বাড়াতে চাইছেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেও জানানো হয়েছে। দায়িত্বশীলরা জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কলেজেরটি নয়, আলাদা) একটি আরটি-পিসিআর মেশিন আছে। দীর্ঘদিন ধরে মেশিনটি অলস পড়ে আছে। সম্প্রতি করোনার শোরগোলে এটির হদিস বের হয়। এটি পাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হাসপাতালে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ফিরতি কোনো জবাব এখনও আসেনি। জানতে চাইলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ হিমাংশু লাল রায় বলেন, আমরা ১৫-২০ দিন আগে এই আরটি-পিসিআর মেশিনের বিষয়টি জানিয়ে ল্যাব স্থাপনের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। এখন আমরা নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। আরটি-পিসিআর মেশিন থাকায় ওসমানী হাসপাতালে ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন শুধু ল্যাবের অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লাগবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন এলেই শুরু হবে কাজ। তবে সম্পূর্ণ ল্যাব স্থাপনের আগে মেশিনটি সচল আছে কিনা, সেটি দেখার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কিছু নমুনা পরীক্ষা করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাঃ আনিসুর রহমান বলেন, ওসমানী হাসপাতালে আরটি-পিসিআর মেশিন আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বললে মেশিনটি আগে পরীক্ষা করে দেখা হবে কাজ করছে কিনা। এরপর ল্যাব স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এদিকে, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট বক্ষব্যাধী হাসপাতাল এবং সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতাল ও হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে আরো চারটি আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব জায়গায় আরটি-পিসিআর মেশিন নেই। ল্যাব স্থাপন করতে হলে এ মেশিন প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক ডাঃ আনিসুর রহমান বলেন, এসব স্থানে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত নয়, তবে হবে। আলোচনা চলছে, মেশিন লাগবে।
প্রসঙ্গত, সিলেটে নমুনা পরীক্ষার ধীরগতি নিয়ে সম্প্রতি এক অনলাইন সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি ল্যাবের সংখ্যা বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।