৩৭৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েও নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারলো না তারা

277

নির্দিষ্ট বাসভূমি থাকা সত্ত্বেও যাযাবরের মতো ঘুরছেন করোনা পরিস্থিতিতে পটুয়াখালী থেকে হবিগঞ্জে আসা একদল কর্মহীন শ্রমজীবী। লকডাউনের কারণে নিজ জেলার প্রবেশ মুখে এসেও অজানার উদ্দেশ্যে ফিরতে হয়েছে ৪০ জনের ওই দলটিকে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে একটি ট্রাকে ধান কাটার শ্রমিক পরিচয়ে করে হবিগঞ্জ জেলায় প্রবেশের চেষ্টা করেন তারা। মাধবপুর উপজেলায় স্থাপিত পুলিশ চেক পোস্টে আসলে পুনরায় তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে, পটুয়াখালী জেলাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন থাকায় সেখানেও পুনরায় প্রবেশের সুযোগ নেই। যে কারণে ৩৭৫ কিলোমিটার পথ ভ্রমণের পর নিজ জেলার প্রবেশমুখে এসে বাড়ি না ফেরার কষ্ট নিয়েই অজানার উদ্দেশ্যে পুনরায় পাড়ি জমাতে হলো ওই লোকগুলোকে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ট্রাকে করে ধান কাটা শ্রমিক পরিচয়ে অন্তত ৪০ জন লোক হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করে। জেলা লকডাউন থাকায় তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগেও ৪টি বাসে আসা লোকজনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা দৈনিক খোয়াইকে বলেন, ট্রাকে করে আসা লোকজনের বাড়ি হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় এবং পটুয়াখালীতে চাকুরী করতেন তারা। এদের মধ্যে প্রায় ১৫ জনের বাড়িই হবিগঞ্জে। ট্রাকের উপরে ত্রিপাল দিয়ে ধান কাটার শ্রমিক পরিচয়ে ছদ্মবেশে আসেন তারা। করোনা পরিস্থিতির কারণে এদেরকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী দৈনিক খোয়াইকে বলেন, পটুয়াখালী অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এখান থেকে যদি কেউ গিয়ে থাকেন তারা লুকিয়ে গেছেন। বিষয়টি আমাদের জানা নেই। ওই লোকদের পুনরায় সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন দৈনিক খোয়াইকে বলেন, বাইরের জেলায় যারা শ্রমজীবী তারা করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে দিনমজুরেরা তো একেবারেই অসহায় অবস্থায়। ভিনদেশে খাবার না পাওয়াটাই বাস্তবতা। সেজন্যই হয়তো তারা নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। যেহেতু করোনা সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সেজন্য তাদেরকে বাড়ি যেতে না দিলেও, সরকারিভাবে এক স্থানে থাকার শর্ত দিয়ে জায়গা সংকুলান করে দিলে ভালো হতো।