গরিব মানুষের খাবারের হাহাকার বাড়ছে চট্টগ্রামে

469
গরিব মানুষের খাবারের হাহাকার
গরিব মানুষের খাবারের হাহাকার

চট্টগ্রামে হতদরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের মানুষের খাবারের জন্য হাহাকার বাড়ছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মহাদুশ্চিন্তা খেটে খাওয়া মানুষের। ফলে সরকারি ছুটি তথা অঘোষিত লকডাউনের মেয়াদ যত বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতদরিদ্র মানুষের খাবারের জন্য হাহাকার। এ পরিস্থিতিতে অনেকে মানুষ রাস্তায়ও নেমে এসেছেন খাবারের সন্ধানে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর সড়কে খাবারের সন্ধানে ঘুরছে অগনিত ক্ষুধার্ত মানুষ। আবার অনেকে নিজের পরিবারের খাবার জোগাড় করতে রিকশা নিয়েও রাস্তায় নেমে পড়ছে। কিন্তু তাদের চাহিদা এবং জোগানের মাঝে ঘারতি রয়ে যাচ্ছে।
অবস্থা-সম্পন্ন ও মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান অনেকেই রান্না করা খাবার নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছে। আবার সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে শুকনো খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তা ছাড়া রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো হতদরিদ্র মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুপুরের খাবার অনেকে দিলেও রাতে এবং সকালের খাবার জুটছে না। আবার কেউ কেউ বলেছেন, শুকনো খাবারও যারা পাচ্ছে তারা বারবার পাচ্ছে, আর কেউ কেউ একেবারেই পাচ্ছেন না। গতকাল দুপুরে খাবারের জন্য নগরীর জিইসি মোড়ের প্রধান সড়কে বসে আছে একদল নিন্ম আয়ের মানুষ।


আব্দুল মান্নান নামের এক মাঝবয়সী রিকশা চালকের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাড়ি মান্নানের। চার মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে চার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। থাকেন নগরীর লালখানবাজার এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে। গতকাল বেলা তিনটার দিকে নগরীর কাজিরদেউড়ি এলাকায় হতাশ মনে বসেছিলেন। তিনি জানান, তখন পর্যন্ত আয় হয়েছে ৭০ টাকা। এর আগের দিন রিকশা মালিকের জমার টাকা দিয়ে নিজের জন্য ১০০ টাকা ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে চারজনের খাবারই জোগাড় করা যাচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারি কারো সহযোগিতাও পাননি বলেও তিনি জানিয়েছেন।


সোহরাব নামের এক চটপটি দোকানি পেটের তাগিদে রিকশা চালাতে বেরিয়েছেন। তিনি জানান, ৫০ টাকার ভাড়া দিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে কোনো আরোহীর দেখা পায়নি। তিনিও পরিবারের সদস্যদের খাবারের টাকা জোগানোর চিন্তায় রিকশা চালাতে বেরিয়ে পড়ে।
শামীম নামের এক পথমানুষের সাথে কথা হয় গতকাল দুুপুরে নগরীর গনি বেকারির মোড়ে। খাবারের প্রতীক্ষায় থাকা এই মানুষটি জানান, তিন দিন পরে আজ (গতকাল) এক প্যাকেট খাবার পেয়েছি। এই এক প্যাকেট খাবার দিয়েই রাত কাটিয়ে দিতে হবে। সেখানে থাকা আরো ক’জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, এক বেলা খেয়ে দু’বেলা উপোস থাকার অভ্যাস তাদের কাছে অনেকটা সহনীয় হয়ে যাচ্ছে। মানুষ যেভাবে ঘরবন্দী থাকছে তাতে সামনে একবেলা খাবারও জুটবে কি না তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায়।
গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর চকবাজার এলাকায় দেখা যায়, একদিকে পুলিশ জনসাধারণকে রাস্তা থেকে ফিরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে, অন্যদিকে থানার প্রধান ফটকে হতদরিদ্র নারী-পুরুষ ও শিশু খাবারের জন্য ভিড় করছে।
আবার নগরীর নুর আহমদ সড়কে ডিবি পুলিশের একটি গাড়ি থামিয়ে এক ভিক্ষুকের হাতে একটি খাবারের পেকেট ও এক বোতল পানি দিতেই মুহূর্তে সেটার পেছন ছুটতে দেখা যায় অন্তত ৩০ জনকে।