দিনমজুরদের ঘরে খাবার পৌছে দেয়ার আহ্বান বাসদ নেতার

715
দিনমজুরদের ঘরে খাবার পৌছে দেয়ার আহ্বান
দিনমজুরদের ঘরে খাবার পৌছে দেয়ার আহ্বান

দিনমজুরদের ঘরে খাবার পৌছে দেয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন বাসদ খুলনা জেলার সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু। ২৬ মার্চ থেকে প্রতিদিনই কোন না কোন শ্রমজীবী এলাকায় করোনা সচেতনতা মূলক প্রচার পত্র, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ করে আসছে সংগঠনের নেতা কর্মীরা। ৩০ মার্চ থেকে খালিশপুরে শ্রমজীবি মানুষের এলাকায় মাস্ক সহ প্রয়োজনীয় জিনিস পৌছে দিচ্ছে নেতা কর্মীরা।

বাসদ খুলনা জেলার সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু বলেন, সবার সহযোগিতায় খুলনায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে আমরা গত ২৬ মার্চ থেকে প্রতিদিন দিনমজুর মানুষদের এই মূহুর্তের নানা প্রয়োজন পৌছে দেয়ার চেষ্টা করছি। আজ (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় খালিশপুরে ৩০ পরিবারকে চাল, ডাল, সাবান, মাস্ক দেয়া হবে। সবার অংশগ্রহণ থাকলে আমরা এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবো। মোট দিনমজুর পরিবারের হিসাবে আমাদের এই চেষ্টা খুবই নগন্য। আসলে এই দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের বাগারম্ভর কথাই শুনছি, এখনও আমরা এই অসহায় মানুষের কাছে কোন সহযোগিতা পৌঁছতে দেখিনি। তাই সামাজিক কর্তব্যের ডাকে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে আসছেন। এটা দয়া-দাক্ষিণ্যতা নয়, বরঞ্চ মানবিকতার শিক্ষা। বক্তব্য শেষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর ১০ দফা আশু দাবি আদায়ে সম্মিলিত কণ্ঠ উচ্চকিত করার আহ্বান জানান বাসদ নেতা।

বাসদের ১০ দফা দাবিসমূহ :

১/ সরকারের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে, প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেট কমিয়ে করোনা সঙ্কটকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এই মূহুর্তে কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ কর।

২/ ভর্তুকি মূল্যে মাস্ক, সবান, স্যানিটাইজার, কিট সরবরাহ কর।

৩/ প্রবাসীদের হয়রানি না করে সহায়তা কর। প্রতিটি জেলায় করোনা সংক্রামিতদের চিকিৎসা ও সেবা দানের বিশেষ ব্যবস্থা কর। আর্মি স্টেডিয়াম সহ বিভিন্ন খেলার মাঠে বিশেষায়িত হাসপাতাল কর; সেনাবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতাল করার সবঞ্জাম কাজে লাগাও; ওই ফিল্ড হাসপাতালে বিদেশ থেকে আইসিইউ আমদানি করে স্থাপনের ব্যবস্থা কর।

৪/ ডাক্তার, নার্স, ও স্বাস্থ্যকর্মিদের প্রশিক্ষণ, সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত ও ঝুঁকি ভাতা দিতে হবে।

৫/ শ্রমজীবিদের বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে জীবিকা অর্জনের জন্য তাদের ও অন্যদের জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে।

৬/ করোনা সংকটকে কাজে লাগিয়ে বাজার সংকট সৃষ্টি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নাও এবং মূল্যবৃদ্ধির হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৭/ করোনার অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই করা চলবে না। সবেতন ছুটি দিতে হবে।

৮/ বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে আপদকালীন স্বাস্থ্যকর্মি প্রস্তুত ও নিয়োগ করতে হবে।

৯/ খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী সুলভ মূল্যে সরবরাহ করতে হবে।

১০/ স্বাস্থ্য ব্যবসা নয়, চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।