কিম জং উন জিবীত ও সুস্থ্য আছেন-দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার।

354
কিম জং উন জিবীত ও সুস্থ্য আছেন-দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার
কিম জং উন জিবীত ও সুস্থ্য আছেন-দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বেঁচে আছেন এবং সুস্থ আছেন। হার্ট সার্জারির পর গুরতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর খবরটি সম্পুর্ণ গুজব বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

রবিবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জায়ে-ইন এর সুরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মুন চুং-ইন এসব কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন,”আমাদের সরকারের অবস্থান দৃঢ়। কিম জং-উন বেঁচে আছেন এবং ভাল আছেন।”

উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট কিম ১৩ই এপ্রিল থেকে দেশটির পূর্ব উপকুলের ওনসান এর রিসর্ট শহরে অবস্থান করছেন। এখনও পর্যন্ত তার রিসোর্ট ত্যাগ করার কোন প্রমাণস্বরুপ আলামত পাওয়া যায়নি।
কিম জং-উনের  ট্রেন সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার রিসর্টে স্পট করা আছে।

দেশের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন তাঁর দাদা কিম ইল-শংয়ের জন্মদিন ১৫ ই এপ্রিল উদযাপন থেকে প্রেসিডেন্ট কিম এর স্পষ্টত অনুপস্থিতি থাকায় মুলত এমন গুজবের সৃষ্টি হয়েছে।

১১ এপ্রিল কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সভায় সভাপতিত্ব করার পর থেকে কিম জনসম্মুক্ষে উপস্থিত হননি।  তার অনুপস্থিতিতে তার অবস্থা নিয়ে একাধিক মিডিয়া ভুয়া রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

কিন্তু সিওল এবং বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, কিম অসুস্থ হওয়ার কোন বিশ্বস্থ নতি বা প্রমাণ নেই।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “এই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই এবং উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত কোনও বিশেষ আলামত শনাক্ত করা যায়নি,”

উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়দের নিয়োগ করে এমন একটি সিওল-ভিত্তিক অনলাইন  ডেইলি এন কে নামের মিডিয়া আউটলেট দাবি করে  যে, এই মাসের শুরুর দিকে তিনি “কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি” করার পরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। মুলত এর পরই কিম সম্পর্কে জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে।

উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ধূমপান, স্থূলতা এবং অবসন্নতার কারণে ৩৬ বছর বয়সী কিমের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল।

এর পরই সিএনএন প্রকাশ করে যে,

“ওয়াশিংটন গোয়েন্দা নজরদারি করেছে যে, সার্জারির পর কিম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করে একজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।”

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার  কিম অসুস্থ হওয়ার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, তিনি যখন তাঁর সাথে শেষবারের মতো যোগাযোগ করেছিলেন তখন কিম বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেছিলেন।

সোমবার, উত্তর কোরিয়ার সরকারী রোডং সিনমুন পত্রিকা জানিয়েছে যে, কিম “জায়েন্ট ওয়ানসান কলমা উপকূলীয় পর্যটন প্রকল্পের” শ্রমিকদের এক বার্তামাধ্যমে ধন্যবাদ জানিয়েছে ।  রাষ্ট্রের মিডিয়ার সাম্প্রতিক দিনগুলিতে কিমের দেওয়া বিবৃতি বা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যদিও সেখানে কোন নেতার ছবি প্রকাশ করে নি।
কিম জং-উনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে ডাক্তার পাঠিয়েছিল চীন।
ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে “থার্টি এইট নর্থ” নামের একটি সাইট জানিয়েছে, কিম জং উন এর ২৫০ মিটার দীর্ঘ ট্রেনটি ১৫ এপ্রিল লিডারশীপ স্টেশনে দেখা না গেলেও ২১ এবং ২৩ এপ্রিল ট্রেনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

সাইটটিতে বলা হয়, শেষবারের মত অনুমান করা গিয়েছিল যে ট্রেনটি লিডারশীপ স্টেশন প্রস্থানের জন্য তৈরি হচ্ছিল। তবে ট্রেনটি কবে বা কখন ছেড়ে যাবে সেই বিষয়ে কোন অনুমান করা যায়নি। স্টেশনটি কিম এর পরিবারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ট্রেনের উপস্থিতি উত্তর কোরিয়ার নেতার সন্ধান বা তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেয় না এবঙ কিম দেশের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে অভিজাত অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলেও জোর দাবি দেওয়া যায় না। কেননা উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সকল বিষয় কঠোরভাবে সংরক্ষিত, বিশেষ করে প্রশাসনিক বিষয়ে।

কিমের স্বাস্থ্য বিষয়ে গুজব নতুন কিছু নয়।এর আগেও ২০১৪ সালে  তিনি ৫ সপ্তাহ ধরে মিডিয়ার বাহিরে ছিলেন এবং পরে হাঁটার স্টিক নিয়ে মিডিয়ার সামনে আত্মপ্রকাশ করেন। তার কয়েকমাস পর দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল যে, কিমের গোড়ালির অস্রোপাচার করা হয়েছিল।
সুত্র/ দ্যা গার্ডিয়ান।