বুকের বাম পাশে ব্যথা কিসের লক্ষণ হতে পারে।

আমাদের নিজেদের সচেতনতায় পারে আমাদের রক্ষা করতে।এমন পরিস্থিতি তৈরী হলে,দেরী না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

837
বুকের বাম পাশে ব্যথা
বুকের বাম পাশে ব্যথা

‘’কর্ম ব্যস্ত জীবনে নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নেবার সময় কোথায়!’’ কাউকে শরীরের প্রতি অবেহালা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এই কথাটিই বলবেন।কিন্তু যে শারীরিক সক্ষমতার জন্যে আমরা সারাদিন পরিশ্রম করি,তার দিকে নজর দেওয়া কি আমাদের দায়িত্ব নয়?

আজ আমি আমাদের বুকের বাম পাশের ব্যথা নিয়ে আলোচনা করবো।

বুকের বাম দিকে ব্যথা হলে তা সাধারণত হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে থাকে। সাধারণত হৃদরোগে কেউ আক্রান্ত হলে ব্যথার সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। এর মধ্যে ______

১।শ্বাসকষ্ট।

২।বাম বা ডান হাতে তীব্র ব্যথা।

৩। ঘাড়, কাঁধ, চোয়াল এবং পিঠেও তীব্র ব্যথা দেখা দেয়।

 ৪।কারও কারও হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

৫। বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ঘাম এবং মাথা ঘোরা দেখা যায়।

                 তবে হৃদ্‌রোগ ছাড়াও বুকে ব্যথা এবং তা প্রচণ্ড হতে পারে। বুকে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নেন হৃদ্‌রোগের কারণে এমন ব্যথা হচ্ছে কি না। হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা বাতিল হলে চিকিৎসক বুকে ব্যথার অন্য কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন এবং চিকিৎসার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
হৃদ্‌রোগ ছাড়া বুকে ব্যথা সব বয়সের মানুষের হতে পারে। নারী বা পুরুষের বেলায় ধরনের ব্যথা হওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায় না। একজন বিশেষজ্ঞের কাছে হৃদ্‌রোগজনিত বুকে ব্যথা নিয়ে যত রোগী আসে, তার চেয়ে চার গুণ বেশি রোগী আসে বুকের অন্য কোনো ব্যথা নিয়ে।

 ধরনের ব্যথার উপসর্গ হচ্ছে____ মাঝে মাঝে ব্যথা হচ্ছে। বুকের ঠিক কোথায় ব্যথা হচ্ছে তা সঠিকভাবে রোগী বলতে পারছে। ছাড়া এই ব্যথা অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ছে না। রোগী সাধারণ কাজকর্ম করতে পারছে।মানে খুব বেশি কস্ট হচ্ছে না।
অর্থাৎ, বুকে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের সাধারণ কাজকর্ম করতে কোনোই অসুবিধা হয় না। ধরনের রোগীরা ব্যথা নিয়ে সাধারণভাবে প্রথমেই হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান বা তাদের ধরনের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

কখনও কখনও ভিন্ন কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। যেমন________
১. প্যানিক অ্যাটাক হলে বুকে ব্যথা হতে পারে। সেটা কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। তারপর কমে যায়। প্যানিক অ্যাটাকের কারণে মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়, তখন বুকে বা অন্যান্য স্থানেও ব্যথা দেখা দেয়। তখন অনেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। সাধারণত অতিরিক্ত উৎকন্ঠা বা দুশ্চিন্তা থেকেই এমন হয়। যদি ঘন ঘন এটা হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. অনেকসময় ঝাল, অ্যাসিডিক,ক্যাফেইন জাতীয় খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। তখন বুকে ব্যথা হতে পারে।
৩. বেশী ভারী জিনিস বহন করলেও অনেকসময় মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়। তখন বুকে ব্যথা হতে পারে।

৪. আপনি যখন বিষণ্নতায় থাকেন তখন হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত রক্ত প্রবাহিত হয়। যার ফলে হঠাৎ বুক ব্যথা শুরু হয়।

তবে চিকিৎসকদের মতে,কোন কারনে  বুকে ব্যথা হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়তো নাও হতে পারেন কিন্তু ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।

আমাদের নিজেদের সচেতনতায় পারে আমাদের রক্ষা করতে।এমন পরিস্থিতি তৈরী হলে,দেরী না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।