সর্দিজ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে যা করবেন

1011

বিশ্বব‌্যাপি এক আতংকের নাম করোনা ভাইরাস।করোনা ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করার পর অন‌্যতম লক্ষন হিসাবে সর্দিজ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জা মানব শরীরে প্রভাব বিস্তার করে।তবে করোনা ভাইরাস ছাড়াও অন‌্য কারনে সর্দিজ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জা হতে পারে।সম্মানিত পাঠববৃন্দ আজ আমরা সাধারন সর্দিজ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

সর্দিজ্বর


বৎসরের যে কোন ঋতুতে প্রত্যেক লোক দুই একবার সর্দিজরে আক্রান্ত হয়। এক বাড়িতে কেও আক্রান্ত হলে ঐ বাড়িতে আরও দুই একজন আক্রান্ত হতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা সর্দি কাশি অপেক্ষা অধিক কষ্টদায়ক।
ইহা ক্যাটারাল ভাইরাস বা সর্দি ভাইরাস নামক এক প্রকার জীবানু দ্বারা হয়।

রোগের কারনঃ
১। এলার্জির জন্য।
২। সর্দিযুক্ত লোকের সংস্পর্শে থাকলে।
৩। আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে।
এছাড়া বৃষ্টির পানিতে ভিজা, গরমের পর হটাৎ ঠাণ্ডা লাগা, পেট গরম হইয়া, ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পান করা, অতিরিক্ত শ্লেষ্মকর জিনিস খাওয়া প্রভুতি কারনে সর্দি জ্বর হয়।

রোগের লক্ষন সমূহঃ
১। প্রথমে হঠাৎ করে নাকে জ্বালা এবং হাঁচি শুরু হয়।
২। নাক দিয়ে প্রচুর পানি পরে।
৩। অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ হয়, গলায় ঘা, সামান্য গায়ে তাপ থাকে।
৪। মাথা ভারবোধ হয়।
৫। যদি ব‌্যাকটিরিয়াল হয় তবে গায়ের তাপ বাড়ে।

খাবার ও চিকিৎসাঃ
১। যদি রোগী সর্দি জ্বরের সঙ্গে টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হয়,তবে তার ভিন্ন চিকিৎসা করতে হবে।
২। বুকের ব্যথায় বা গলায় বেশী সর্দি জমিলে ঠাণ্ডা লাগানো যাবেনা।
৩। জ্বর হলে প্রচুর পানি ও সকল খাবার খাওয়া ভাল।
৪। ঠাণ্ডা জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা।

ইনফ্লুয়েঞ্জা

ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি সংক্রামক ব্যধি। সর্দি জ্বরের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জাতেও কাশি থাকে ও নাক দিয়ে পানি পড়ে। এই রোগে রোগীর হৃদপিণ্ড ও শরীর দুর্বল করে দেয়। অনেক সময় এটা মহামারির আকারে দেখা দেয়।

রোগের কারনঃ
ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগে সাধারনত ভাইরাসের কারনে হয়ে থাকে। রোগ জীবানু শরীরে প্রবেশ করলে গা ম্যাজম্যাজ করে। ফলে হাত, পা, গা ইত্যাদিতে ব্যথা হয়।

রোগের লক্ষন সমূহঃ
বাংলাদেশে সাধারনত তিন প্রকারের ইনফ্লুয়েঞ্জা দেখা যায়।
১। জর সংক্রান্ত (ফেব্রাইল টাইপ) – ইহার প্রধান লক্ষন জ্বর এবং ইহা হঠাৎ আরাম্ভ হয়। ইহার প্রাথমিক অবস্থায় মাথা ধরা, শীত অনুভব হওয়া ইত্যাদি লক্ষন প্রকাশ পায়। জ্বরের মাত্রা দ্রুত বাড়ে।

খাবার ও চিকিৎসাঃ
১। জ্বরের গতি বেশি হলে রোগীর মাথায় প্রচুর পানি ঢালতে হবে( বরফের পট্টি দিতে পারলে ভাল হয়)।
২। রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
৩। গলায় খুসখুস কাশি থাকলে উষ্ণ পানিতে লবন মিশিয়ে গড়গড়া করতে হবে(দিনে ২/৩ বার)।

সর্বপোরি বর্তমান সময়ে এসব রোগের ভয়াবহ লক্ষন দেখা দিলে ৩৩৩ নাম্বারে ফোন দিয়ে অবহিত করুন।
ঘরে থাকুন,সুস্থ থাকুন!