কে ইন্টার্নেটের আসল মালিক!!

বর্তমান বিশ্বের সবাই এখন একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে কে? কে এই সুবিশাল সত্তার স্বত্বাধিকারী হবে?

834
Internet
Internet

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দিন দিন আমাদের নিত্যনতুন জিনিস উপহার দিচ্ছে। সেগুলোর ব্যবহার করে আমরা সমৃদ্ধ হচ্ছি। ইন্টারনেট হচ্ছে সেই প্রযুক্তিরই একটি।সারাদিন আমরা ফেইসবুক,টুইটার,হটসএপ,জিমেইল এসব কত কি-না ব্যাবহার করি।কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছি  ইন্টারনেট না থাকলে কি হত? কিভাবে একটা মোবাইল থেকে সোশাল মিডিয়াতে একটা পোস্ট দিলে সারা দুনিয়ায় থাকা  সব বন্ধুরা দেখতে পারে।

 আসলে আমরা অনেকেই সঠিকভাবে জানি না ইন্টারনেটটা কী এবং এর প্রকৃত স্বত্বাধিকারী বা মালিক কে বা কারা। আসুন এবার আমরা জেনে নিই সেই বিষয়টিই।

ইন্টারনেট হলো বিভিন্ন নেটওয়ার্কের একটি সমন্বিত সংযোগ। এই সংযোগগুলো পরিচালিত হয় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম- নীতির মাধ্যমে, যার নাম প্রোটকলস। এই নিয়মগুলোই সব নেটওয়ার্কের মধ্যে সহজভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে। তবে সবকিছুই নির্ভর করে রাউটার নেটয়ার্ক এক্সেস পয়েন্ট বা (NAP) এবং কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর। এর সঙ্গে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল পাঠানোর জন্য প্রয়োজন কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট,হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত কেবল এবং সহস্র ওয়্যারলেস রাওটার।সারা দুনিয়র অনেক গুলো টি আর(TR) কোম্পানি আছে যাদের কাজ  হল এক দেশ থেকে আরেক দেশে নেটওয়ার্ক,তার দিয়ে জোড়া লাগানো। তার গুলো সাধারণত সমুদ্র তল দিয়ে  এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে আসা হয়। আমাদের দেশে কুয়াকাটা এবং কক্সবাজার এমন তারের দুটি স্টেশন আছে।যাকে বলে ল্যান্ডিং স্টেশন। সামিট,বাংলা লায়ন,গ্রামিন বা রবি ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক অপারেটর এই ক্যাবল স্টেশন থেকেই লাইন নেয়।
সমুদ্র তলের এসব তার কে বলে সাবমেরিন ক্যাবল বা ফাইবার অপটিক ক্যাবল। প্রতি সেকেন্ডে কয়কশত গিগাবাইট ডাটা এই ক্যাবলের মধ্যে দিয়ে আদান প্রদান করা হয়।
আরোও সহজ করে দিই_______

আমরা যারা বাসায় ইন্টারনেট চালাই,আমাদের বাসার পাশের আই এস পি ওই বিশাল ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন এর সাথে যুক্ত থাকে। আই এস পি থেকে লাইন নিলেই আমাদের পিসি অন্য আরেকটা পিসির সাথে যুক্ত হয় এবং বিভিন্ন ডাটা আদান প্রদান করে।আর এই আই আস পি(ISP) হচ্ছে একটা মাধ্যম।যাকে আমরা ওয়াইফাই রাওটার নামেই চিনি।
আবার ক্যাবল স্টেশন থেকে সামিট,গ্রামিন ফোন বা রবি,বাংলালায়ন কিংবা অন্যান্য অপারেটর তাঁদের নেটওয়ার্ক টাওয়ার গুলোতে সংযোগ দেয়। আর টাওয়ার গুলো নিজেরা একটা থেকে আরেকটা একটা বিশেষ ফ্রিকুয়েন্সি তে যোগাযোগ করে নিজেদের মধ্যে ডাটা আদান প্রদান করে,নির্দিষ্ট সিগন্যাল প্রেরন করে।আর আমাদের মোবাইলে থাকা বিশেষ চিপ সেই নেটওয়ার্ক সিগন্যাল গ্রহন করে ইন্টারনেটের সঙ্গে আমাদের যুক্ত করে।

 
বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশেই ইন্টারনেট সংযোগ আছে। বর্তমান বিশ্বের সবাই এখন একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে কে?
কে এই সুবিশাল সত্তার স্বত্বাধিকারী হবে?

এবার আসা যাক ইন্টারনেটের সত্যিকারের স্বত্বাধিকার কে সেই বিষয়ে_________

যে ফিজিক্যাল নেটওয়ার্ক বিভিন্ন কম্পিউটারের মধ্যে ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিবহন করে, তাকে বলা হয় ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড। ৯০দশকের মাঝামাঝি ইন্টারনেট সিস্টেম শুরুর দিকে, ইন্টারনেট সিস্টেমে আপারনেট মেরুদণ্ড হিসাবে কাজ করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি,রাওটার এবং ক্যাবল যোগানের মাধ্যমে ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড হিসাবে কাজ করছে। এই কোম্পানিগুলোকে বলা হয় ইন্টারনেট সেবাদাতা বা আইএসপি বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার।
এখন কোনো দেশ বা যদি নিজের প্রয়োজনে ইন্টারনেট এক্সেস পেতে চায়, তাহলে তাকে এই আইএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বিশ্বের  আইএসপি বা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যারা বিখ্যাত তারা হলো— UUNET,Level 3,Verizon,Qwest  ইত্যাদি।
এই সব বড় বড় আইএসপিগুলো থেকে আবার ছোট ছোট আইএসপি র জন্ম হয়েছে। যারা আমাদের সেবা দিয়ে থাকে। যেমন_ ব্রডব্যান্ড কানেকশন,গ্রামিন ফোন,রবি, বাংলালিংক, বাংলালয়ন ইত্যাদি।
ইন্টারনেট ব্যবস্থাটা চলে কিছু নিয়মের ওপর, যাকে আমরা প্রটোকল বলি। সেই প্রটোকলগুলো মেনেই একটি কম্পিউটার ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সাহায্যে অন্য কম্পিউটারে তথ্য প্রদান করে। প্রটোকল না মেনে কোনো কম্পিউটার তথ্য প্রদান করতে পারে না।
 
বিভিন্ন কোম্পানি বা কিছু প্রতিষ্ঠান এটা নিয়ন্ত্রন করে থাকে। প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা আইএসপির আলাদা ইন্টারনেট থাকে। এখন আমি একক ভাবে যদি কোন কম্পিউটার দিয়ে সেই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হই তাহলে সেই ইন্টারনেটের মালিক আমি নিজেও বা আপনি যুক্ত থাকলে,আপনিও।
মানে হলো,আমি বা আপনি নিজেও ইন্টারনেটের একটা অংশের মালিক। কারন সমগ্র ইন্টারনেটের কোন মালিকানা হয় না। যদিও অনেক প্রতিষ্ঠান বা দেশের সরকার নিজেদের ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, যাকে বলা হয় লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN)।মোদ্দা কথা হলো আপনি, আমি, আমরা সকলেই একেক জন একেকটা ইন্টারনেট অংশের মালিক।

এখন কি মনে প্রশ্ন আসছে না যে এই জিনিসের দায়িত্ব আমি বা আপনি কতটুকু নিয়েছি?
তাহলে কারা এর দায়িত্ব নিয়েছে!!আসুন দেখে নিই_____
আমি আগেই বলেছি যে ইন্টারনেট ব্যবস্থাটা চলে কিছু নিয়মের উপর যাকে আমরা প্রটোকল বলি। সেই প্রটোকলগুলো মেনেই একটি কম্পিউটার ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সাহায্যে অন্য কম্পিউটার তথ্য প্রদান করে। প্রটোকল না মেনে কোন কম্পিউটার তথ্য আদান- প্রদান করতে পারেনা।
কাউকে না কাউকে এই নিয়মগুলো মানে প্রটোকল নিয়ন্ত্রন করতে হবে। সমগ্র ইন্টারনেট কাঠামো এবং প্রটোকল ঠিক করে দেওয়ার জন্য রয়েছে অনেকগুলো সংগঠন যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে ।যেমন__দ্যা ইন্টারনেট সোসাইটি,দ্যা ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্স,দ্যা ইন্টারনেট আর্কিটেকচর বোর্ড ইত্যাদি নামের প্রতিষ্ঠান।
এই সংগঠনগুলো ইন্টারনেটের জন্য সবকিছু করলেও এরা কখনো ইন্টারনেটের মালিকানা দাবি করতে পারেনা। আসল কথা হলো কেন্দ্রিয়ভাবে ইন্টারনেটের কোন মালিকানা নেই। অনেকেই এটার উন্নয়নে কাজ করলেও এখনও পর্যন্ত কেউ এটার মালিকানা দাবি করতে পারেনি।

সুতরাং সহজ ভাবেই অনুমেয় যে,ইন্টারনেটের নির্দিষ্ট কোন স্বত্বাধিকার নেই।এটা নিয়ন্ত্রন হয় সব দেশের সম্মিলিত প্রচেস্টায়।