বাড়ছে বৈশ্বিক তাপ, গলছে বরফ, মাথাচড়া দিছে ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়া।

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী অতীতের অনেক মাইক্রোবস ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।অর্থাৎ আমরা নিজেরাই নিজেদের মরন ফাঁদ তৈরী করছি।

virus & bacteria

যুগ যুগ ধরেই মানুষ আর ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়া পাশাপাশি বাস করে চলেছে।মানুষ আর ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়া যেন সমার্থক।যেমন ধরুন আপনার প্রাত্যাহিক সকল কাজের সাথেই ব্যাক্টিরিয়া সম্পৃক্ত।আপনি যে কাজই করেন না কেনো, সেটা আপনার সাথেই মিশে আছে।খাচ্ছে,ঘুমোচ্ছেন,কাজ করছেন সব কিছুতেই তার সরব উপস্থিতি পাবেন।

ব্যাক্টিরিয়া দুই ভাগে ভাগ হয়ে আমাদের সাথে মিশে থাকে।একটি ভালো ব্যাক্টিরিয়া অন্যটি খারাপ ব্যাক্টিরিয়া।খারাপ ব্যক্টিরিয়া আমাদের দেহে ক্ষতি করে,আর ভালো ব্যাক্টিরিয়া আমাদের দেহ ঘড়ি সচল রাখে।যেমন,সকল খাবারের খাদ্যপ্রান।

আমাদের পরিবেশের বাস্তুসংস্থানও স্বাভাবিক রেখেছে এই ব্যাক্টিরিয়া।ব্যাক্টিরিয়া না থাকলে আমাদের এই গর্বের পৃথিবী কবেই আবর্জনার স্তুপে পরিনত হত।মানুষ তথা প্রানীকুল কত বিলীন।

আসল কথায় আসা যাক_________

 আবার এই ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়া মানুষ তথা প্রানীকুলের প্রধান হুমকি।এরা প্রানীদেহে নানারকম রোগবালাই সৃষ্টি করে আমাদের অস্তিত্ব ফেলেছে হুমকির মুখে।আর মানুষও এদের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে নিজেদের। মানুষ যতবারই নানারকম প্রতিষেধক আবিষ্কার করে, ওষুধ আবিষ্কার করে তাদের প্রতিহত করতে চেয়েছে, বারাবরই তারা জেনেটিক মিউটেশন ঘটিয়ে নতুন রূপে ফিরে ফিরে এসেছে।
ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়ার সঙ্গে মানুষের এই যুদ্ধ অপরিসীম। এখন প্রশ্ন হল যদি এমন কিছু মাইক্রোবসের সম্মুখীন আমাদের হতেই হয়, হাজার হাজার বছর আগে যাদের অস্তিত্ব এই বিশ্ব থেকে লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।
তাহলে কি সেই সমস্ত প্রাণঘাতী মাইক্রোবসের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হতে পারব আমরা? নাকি আরও একবার মৃত্যু-মিছিল শুরু হবে বিশ্বে?

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন দিন কিন্তু আসতে চলেছে। আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী অতীতের অনেক মাইক্রোবস ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।অর্থাৎ আমরা নিজেরাই নিজেদের মরন ফাঁদ তৈরী করছি।

২০১৬ সালে সাইবেরিয়ার এক ১২ বছরের শিশু অ্যান্থ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছিলেন, বহু বছর আগে ওই এলাকায় অ্যান্থ্রাক্সের কবলে প্রচুর রেনডিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দেহগুলো বরফের নীচে চাপা পড়েছিল।
বিশ্ব উষ্ণায়নে বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গেই মৃতদেহে চাপা পড়ে থাকা জীবাণু বাইরে বেরিয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনোভাবে পানি এবং খাবারের সঙ্গে মিশে গিয়েই ওই শিশুর সংক্রমণ ঘটায়।

বুঝতেই পারছেন।শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকা একাধিক প্রাণঘাতী জীবাণুর খোঁজ পেয়েছেন। যেমন ২০০৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা আলাস্কার একটি বরফ হ্রদ থেকে ৩২ হাজার বছরের পুরনো এক ব্যাক্টিরিয়ার খোঁজ পেয়েছেন।
এর দু’বছর পর ২০০৭ সালে আন্টার্কটিকার বরফে চাপা পড়ে থাকা ৮০ লক্ষ বছর পুরনো এক ব্যাক্টিরিয়ার সন্ধানও পেয়েছেন।
১৯১৮ সালে সারা বিশ্বের ত্রাস হয়ে উঠেছিল স্প্যানিস ফ্লু। প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই সংক্রমণের জেরে। আলাস্কার তুন্দ্রায় বরফের তলার গণ কবর দেওয়া হয়েছিল মানুষদের। সেই জায়গা থেকেই স্প্যানিস ফ্লু ভাইরাসের জেনেটিক অংশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এমনকী একইভাবে সাইবেরিয়ায় বরফের তলা থেকে গুটি বসন্ত এবং বিউবোনিক প্লেগ-এর ভাইরাসও মিলেছে। ১৮৯০ সালে সাইবেরিয়াতে মহামারি আকার নিয়েছিল গুটি বসন্ত। ৪০ শতাংশ জনবসতি বিলীন হয়ে গিয়েছিল এই রোগে।

ফ্রান্সের এইক্স-মারসেলি ইউনিভার্সিটি বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোবসের জন্য খুব ভাল সংরক্ষকের কাজ করে বরফের স্তূপ। কারণ অত্যন্ত ঠান্ডা, কোনও অক্সিজেন নেই এবং সূর্যের আলোও পৌঁছয় না। ফলে যুগ যুগ ধরে বরফের তলায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে এরা।
পৃথিবীর দুই প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে যে বরফের আস্তরণ জমা হয়ে রয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে তা প্রতিদিনই গলতে শুরু করেছে। ফলে বরফ স্তূপের গভীরে চাপা পড়ে থাকা এই সমস্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়াও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সুতরাং,একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, বৈশ্বিক উস্নায়নের ফলে আমাদের জলবায়ু খুবই দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়েছে দ্বিগুন। মরু অঞ্চলের বরফ খুবই দ্রুত গলতে শুরু করেছে।আর এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়র রাখা হবে দুষ্কর। আমাদের নিজেদের স্বার্থে নিজেদেরই এগিয়ে আসতে হবে।