রোযা মানুষকে অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে

রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লার নিকট অতি প্রিয়
রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লার নিকট অতি প্রিয়


আজ মাহে রমজানের ১৩তম দিন। আজ মাগফেরাতের ৩য় দিন । সিয়াম বা রোযা আল্লাহভীতি অর্জনে সাহায্য করে, মানুষকে অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। সিয়াম পেট এবং লজ্জাস্থানের চাহিদা দমন করে। আর এ দুটো জিনিস মানুষকে যাবতীয় খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যায়। এদুটো জিনিসের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে হারাম ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাই রোযাকে প্রাণবন্ত করার জন্য শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। এমাসে আমরা বেশী বেশী তওবা করব, সকল প্রকার গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখব। এ মাস হল ধৈর্য ধারনের মাস, কথায় কথায় রাগ না করে বরং ধৈর্য্য ধারন করব। 
মহানবী (সঃ) বলেছেন কোনো ব্যক্তি যদি রাগান্নীত হয়ে আপনার সাথে ঝগড়া করতে আসে তা হলে আপনি বলুন ‘‘ইন্নী সায়েমুন’’ আমি রোযাদার , আমি আপনার সাথে ঝগড়া করতে পারবোনা। হাদিস শরীফের সাথে আমাদের অনেকেরই কাজের কোনো মিল নেই, বরং মাহে রমযানে যেন আমাদের মেজাজ আরো বেশী খিটখিটে হয়ে যায়। কথায় কথায় রাগ আর গোশ্বা মনে হয় যেন তিনি যে রোযাদার তা তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন। হাদিস শরীফে রাসুল (সঃ) মাহে রমযানকে ‘‘শাহরুল মাওয়াসাত’’ অর্থাৎ পরস্পর আন্তরিকতার মাস বলেছেন । অতএব আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আমরা হাদিসকে একেবারে ভুলে না যাই এবং সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে যে, যে কাজ রোযার উদ্দেশ্য পরিপন্থি সে কাজ যেন আমরা না করি। রোযাকে সহিহ সুদ্ধ করার জন্য যেমনিভাবে আমরা জিহবাকে নিয়ন্ত্রন করি, তেমনিভাবে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করি। যেমন চক্ষুকে অশ্লীল কিছু দেখা থেকে বিরত রাখতে হবে, কানকে কোন কিছু অশ্লীল শুনা থেকে বিরত রাখতে হবে, হাতকে অবৈধ কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে, মনকে অবৈধ চিন্তা চেতনা থেকে বিরত রাখতে হবে। তাহলে রোযার আসল উদ্দেশ্য সফল হবে, রোযার আসল স্বাদ অনুভব করা যাবে।  
কুরআন মজিদে আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘‘হে মুমিনগন তোমাদের জন্য রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’’